বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মিশনের ব্যর্থতার পর ব্যারি উইলমোর এবং সুনিতা উইলিয়ামস প্রায় নয় মাস কাটিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। তাঁদের উদ্ধারকারী রকেট ক্রু-১০ মিশন অবশেষে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয় ১৪ মার্চ, শুক্রবার। ২৮ ঘণ্টার যাত্রা শেষে ১৫ মার্চ, শনিবার নভোযানটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাবে।
এর আগে আরও দুই বার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমবার গত ১২ মার্চ, নভোযানের একটি হাইড্রোলিক সিস্টেমে সমস্যা হওয়ায় মিশন বাতিল করা হয়। এরপর ১৩ মার্চ আবার উৎক্ষেপণের চেষ্টা করলে তা-ও স্থগিত করা হয় বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের জন্য। অবশ্য তৃতীয় চেষ্টায় ক্রু-১০ মিশন উৎক্ষেপণে সফল হয়েছে নাসা ও স্পেসএক্স।
এই মিশন চলবে ছয় মাস। ক্রু-১০ মিশনের নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার পর পৃথিবীতে ফিরবেন ক্রু-৯ মিশনের নভোচারীরা। সেই সঙ্গে ফিরবেন ব্যারি উইলমোর ও সুনিতা উইলিয়ামস।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ জুন বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের গিয়েছিলেন দুই মার্কিন নভোচারী ব্যারি ও সুনিতা। তখন শুধু ৮ দিনের পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা মহাকাশে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে, সেই সংক্ষিপ্ত যাত্রাই রূপ নেয় দীর্ঘ সফরে।
স্টারলাইনার নভোযানের কারিগরি ত্রুটির কারণে নির্ধারিত এই দুই নভোচারী পৃথিবীতে ফিরতে পারেননি। ফলে তাঁদের বয়ে নিয়ে যাওয়া স্টারলাইনার নভোযান গত বছরের সেপ্টেম্বরে পৃথিবীতে ফিরে আসে। এরপর নাসা সিদ্ধান্ত নেয়, ব্যারি ও সুনিতাকে স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানে করে ফিরিয়ে আনা হবে।
এরপর ক্রু-৯ মিশনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যান মার্কিন নভোচারী নিক হেগ ও রুশ নভোচারী আলেকজান্দ্র গোরবুনভ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরাই পৃথিবীতে ফেরার সময় ব্যারি ও সুনিতাকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরবেন। সেজন্য ক্রু-৯ মিশনে দুটি সিট ফাঁকা রাখা হয়েছে।