বেনু গ্রহাণুর নমুনায় পাওয়া গেছে পাঁচটি নিউক্লিওবেস—অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল। এই ক্ষারগুলোকে ভাবতে পারেন অক্ষর—যে অক্ষরে লেখা থাকে জীবনের নীল নকশা ডিএনএ। আরএনএও গঠিত হয় এসব নিউক্লিওবেস দিয়ে। গত ২৯ জানুয়ারি, বুধবার নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে এমনটাই জানা হয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, এই নমুনায় পাওয়া গেছে কার্বন, সালফার, ফসফরাস ও সোডিয়াম। পৃথিবীর অনেক হৃদ বা সমুদ্রতলের নমুনায় এসব পদার্থের দেখা মেলে। দেখা যায়, প্রাণের জন্য অত্যন্ত জরুরি এই পদার্থগুলো তৈরি হয়েছে আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগে। এই পদার্থগুলো এবং পাঁচটি নিউক্লিওবেসই প্রাণের মূল উপাদান। এসব একসঙ্গে আগে কখনও পৃথিবীর বাইরের কোনো মহাজাগতিক বস্তুতে পাওয়া যায়নি।
স্মিথসোনিয়ান’স ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির একজন কিউরেটর টিম ম্যাককয়। গ্রহাণু, উল্কা ইত্যাদি নিয়েই তাঁর কাজ। আলোচ্য গবেষণাপত্রগুলোর সহলেখক এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘আজ আমরা জানি, বেনু যেখান থেকে এসেছে, সেখানে জীবনের এসব মৌলিক উপাদানের জটিল সমাবেশ ঘটেছে।’
এই নমুনায় পাওয়া গেছে কার্বন, সালফার, ফসফরাস ও সোডিয়াম। পৃথিবীর অনেক হৃদ বা সমুদ্রতলের নমুনায় এসব পদার্থের দেখা মেলে। দেখা যায়, প্রাণের জন্য অত্যন্ত জরুরি এই পদার্থগুলো তৈরি হয়েছে আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগে।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে এক গবেষণায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছিল, বেনু গ্রহাণুর নমুনায় পানি ও কার্বন পাওয়া গেছে। এই নমুনা আনতে ২০১৬ সালে যাত্রা করে ওসাইরিস-রেক্স নভোযান। গ্রহাণুটি থেকে ১০০ থেকে ২৫০ গ্রামের মতো নমুনা নিয়ে ফেরে নভোযানটি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এই নমুনার খানিকটা অংশ দেওয়া হয় এই দুই গবেষণাপত্রের নেপথ্যের কারিগরদের। প্রথম দলটি এ নমুনা স্ক্যান করেছেন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে। তাতে মানুষের চুলের একশ ভাগের এক ভাগ সূক্ষাতিসূক্ষ্ম জিনিসও ধরা দেয় স্পষ্টভাবে।
দলটি সোডিয়াম কার্বনেট পায় বেনুর নমুনার পৃষ্ঠে। এই সোডিয়াম কার্বোনেটের নমুনায় পরে আরও ১১টি মৌল পাওয়া যায়—এর মধ্যে আছে প্রচুর ফসফরাস ও অল্প বোরন। মজার ব্যাপার হলো, পৃথিবীর বিভিন্ন হৃদে এসব মৌল পাওয়া যায় বিপরীত অনুপাতে, অর্থাৎ সাধারণত ফরফরাস থাকে কম, বোরন বেশি।
প্রাণের মূল উপাদানগুলোর অস্তিত্ব পৃথিবীতে অনন্য নয়, এসব উপাদান থাকতে পারে মহাবিশ্বের আরও বহু জায়গায়। তবে সেগুলো কি সত্যিই গড়ে তুলতে পারে পৃথিবীর মতো বা ভিন্নরকম কোনো প্রাণ?
দ্বিতীয় দলটি ছিল জাপানের। তারা আরেক খণ্ড নমুনায় পেয়েছে পাঁচটি নিউক্লিওবেস—ডিএনএ ও আরএনএর মূল উপাদান—অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল। বলে রাখা প্রয়োজন, ডিএনএতে ইউরাসিল থাকে না, থাকে থায়ামিন। উল্টোভাবে আরএনএতে থায়ামিনের বদলে থাকে ইউরাসিল। ২০২৩ সালে র্যুগু গ্রহাণুর এক নমুনাতেও ইউরাসিল পাওয়া গিয়েছিল, তবে অন্য নিউক্লিওবেসগুলো সেখানে মেলেনি।
তাহলে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে এটি কী বলে? বলে, প্রাণের মূল উপাদানগুলোর অস্তিত্ব পৃথিবীতে অনন্য নয়, এসব উপাদান থাকতে পারে মহাবিশ্বের আরও বহু জায়গায়। তবে সেগুলো কি সত্যিই গড়ে তুলতে পারে পৃথিবীর মতো বা ভিন্নরকম কোনো প্রাণ? বিজ্ঞানী টিম ম্যাককয় বলছেন, ‘এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো জানি না’। তিনি বলছেন, ‘সঠিক উপাদানগুলো তো রয়েছেই। কিন্তু ভিন গ্রহ বা গ্রহাণুতে এই উপাদানগুলো থেকে প্রাণের উৎপত্তির মতো পরিবেশ আছে কি না বা সেখানকার পরিবেশে এগুলো কতদূর এগোতে পারে জীবন গড়ার পথে—এ প্রশ্নের উত্তর আমরা আজও জানি না।’