নয় মাস মহাকাশে কাটানোর পর, অবশেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন ব্যারি উইলমোর ও সুনিতা উইলিয়ামস। স্থানীয় সময় ১৮ মার্চ, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ৫টা ৫৭ মিনিটে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উপকূলে অবতরণ করেন নাসার এই দুই নভোচারী। এ সময় তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে আরও ফেরেন নাসার নভোচারী নিক হেগ এবং রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের নভোচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভও।
ব্যারি ও সুনিতা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে আটকে পড়েছিলেন প্রায় নয় মাস। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের মিশন ছিল মাত্র আট দিনের। কিন্তু নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এটি প্রায় ৩০০ দিন দীর্ঘ হয়।
পৃথিবীতে ফিরে আসার পর মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে শোনা যায় উল্লাসধ্বনি। মিশন কন্ট্রোল থেকে তাঁদের স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, ‘নিক, অ্যালেক্স, ব্যারি, সুনিতা—স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে স্বাগত!’
ব্যারি ও সুনিতা বোয়িংয়ের প্রথম স্টারলাইনার ক্রু ফ্লাইট টেস্টের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৫ জুন মহাকাশে যাত্রা করেন। কিন্তু মহাকাশযানটি কক্ষপথে পৌঁছানোর পর বেশ কয়েকটি সমস্যা দেখা দেয়। ফলে মিশন বাতিল করতে হয়। নভোচারীরা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে চলে যান এবং নভোযানটি কোনো নভোচারী ছাড়াই পৃথিবীতে ফিরে আসে।
এরপর কয়েকবার ব্যারি ও সুনিতাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত নানা কারণে তা হয়নি। অবশেষে তাঁরা পৃথিবীতে ফিরেতে পারলেন। মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরতে তাঁদের সময় লেগেছে ১৭ ঘণ্টা।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার সময় ব্যারি ও সুনিতা বিভিন্ন গবেষণা এবং স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেছেন। যদিও তাঁদের অবস্থান বেশির ভাগ সময় নিরাপদ ছিল। তবে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ জুন একটি পরিত্যক্ত রাশিয়ান স্যাটেলাইট মহাকাশে ভেঙে পড়ে এবং এর ধ্বংসাবশেষ আইএসএসের দিকে ধেয়ে আসে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারি, সুনিতা ও অন্য সাত নভোচারী তাঁদের নিজ নিজ মহাকাশযানে আশ্রয় নেন।
আগেই বলেছি, স্টারলাইনার ক্যাপসুলটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেও এর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস টেস্টিং সেন্টারে এর থ্রাস্টার পরীক্ষা করছেন। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি পুনরায় মহাকাশে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বোয়িং আত্মবিশ্বাসী যে এটি নতুন মিশনের জন্য প্রস্তুত হবে।
ব্যারি ও সুনিতার এই দীর্ঘ অনাকাঙ্ক্ষিত মহাকাশযাত্রা দেখিয়েছে, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ যেকোনো সময় আসতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই মানুষ মহাকাশ অভিযানে এগিয়ে চলেছে। তাঁদের এই ফিরে আসা ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।