প্রায় আড়াই বছর পর, ১৪ মার্চ শুক্রবার রাতের আকাশে দেখা যাবে চাঁদের এক চমৎকার রূপ। চিরচেনা চাঁদ রক্তিম বর্ণ ধারণ করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় একে বলে ‘ব্লাডমুন’। ২০২২ সালের পর এই প্রথম দেখা যাবে এমন চাঁদ।
চলতি বছর প্রথম পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের কারণে দেখা মিলবে চাঁদের এই রক্তাভ রূপ। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু জায়গায় দেখা যাবে। অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে এই চন্দ্রগ্রহণ লাইভ দেখা যাবে।
প্রশ্ন হলো, ব্লাড মুন আসলে কী? কেন দেখা যায় চাঁদের এই রক্তাভ রূপ?
ব্লাড মুনের ব্যাপারে জানতে হলে শুরুতে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বুঝতে হবে। আমরা সবাই জানি, পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ। এর নিজস্ব কোনো আলো নেই। তেমনি পৃথিবীরও নেই। সূর্যের আলোয় এরা আলোকিত হয়। যখন সূর্য ও চাঁদের মধ্যে পৃথিবী চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। ফলে, সম্পূর্ণ চাঁদ বা এর কিছু অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। এই ঘটনাকেই চন্দ্রগ্রহণ বলে। পূর্ণ গ্রহণের সময়ও মাঝেমধ্যে সূর্যের আলোর কিছুটা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। এ সময় চাঁদকে লালচে বা লাল বর্ণের দেখায়। এটাকেই বলা হয় ‘ব্লাডমুন’। তবে এটা কোনো বৈজ্ঞানিক নাম নয়, প্রচলিত নাম।
ব্লাডমুন কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা নির্ভর করে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময়ের ওপর। মূলত চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়ার আকার যত বড় হবে, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময়কাল তত বাড়বে। চন্দ্রগ্রহণও অনেকটা সূর্যগ্রহণের মতো। তবে এক্ষেত্রে চাঁদ ঢাকা পড়ে পৃথিবীর ছায়ায়। পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে তখন রাত থাকে, সেসব অঞ্চল থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। এই গ্রহণ ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
চলতি বছর চাঁদের রক্তাভ রূপ দেখা যাবে প্রায় ৬৬ মিনিট। এ সময়ে চাঁদকে গাঢ় লাল রঙে পরিবর্তিত হতে দেখা যাবে। চলতি বছর আরও একবার চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। আগামী ৭-৮ সেপ্টেম্বর আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যেতে পারে।