২১ জুলাই, ১৯৬৯। পৃথিবী থেকে প্রায় চার লাখ কিলোমিটার দূরে ইতিহাস গড়লেন দুই মার্কিন নভোচারী। নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন নামলেন চাঁদের বুকে। পৃথিবীর বাইরের কোনো জায়গায় সেটাই ছিল মানুষের প্রথম পা রাখা। বেশ খাটনি করে চাঁদের মাটিতে সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা স্থাপনা করেন এই দুই নভোচারী। কাজটা করতে তাঁদের সময় লেগেছিল মাত্র দশ মিনিট, কিন্তু এই পতাকা স্থাপনের পেছনে ছিল অনেক আলোচনা ও বিতর্ক। কী অবস্থা এখন সেই পতাকার? আজও কি তা চাঁদের বুকে টিকে আছে?
এ প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি হ্যাঁ, বা না বলা কঠিন। ১৯৬৯-১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ৬টি মিশন পরিচালনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই সময়ের মধ্যে মোট ৬ বার মানুষ চাঁদে গিয়েছে। প্রতিবার একটা করে পতাকা স্থাপন করেছে চাঁদের বুকে। সেগুলো এখন কেমন অবস্থায় আছে, তা সঠিকভাবে বলতে না পারলেও অনুমান করা যায়।
গবেষকরা বলছেন, চাঁদের তীব্র সূর্যালোকে পতাকাগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পৃথিবীতে দীর্ঘদিন সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে কাপড়ের রং যেমন ফিকে হয়ে যায়, চাঁদের পরিস্থিতি তারচেয়েও কঠিন।
আসলে সেই ১৯৬৯ সালে যখন প্রথম চাঁদের বুকে পতাকা বসানো হয়েছিল, তখনই এর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, পৃথিবীর মতো চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। তার মানে সেখানে বাতাস নেই। বাতাস না থাকলে পতাকা উড়বে কীভাবে? সেজন্য আলাদাভাবে পতাকার ডিজাইন করা হয়েছিল যাতে বাতাস ছাড়াই পতাকা দেখে মনে হয় উড়ছে।
তবে পতাকা উড়ানো কিন্তু সহজ ছিল না। চাঁদের মাটি এত শক্ত ছিল যে পতাকা খুব বেশি গভীরে প্রবেশ করানো যায়নি। এ ব্যাপারে অ্যাপোলো ১১ মিশনের নভোচারী বাজ অলড্রিন বলেছেন, ‘পতাকাটি সোজাভাবে দাঁড় করানো যায়নি। চাঁদের পাথুরে মাটি ছিল খুবই শক্ত। তাই আমরা মাত্র কয়েক ইঞ্চি খুড়েই পতাকাটা সেখানে বসিয়ে দিই।’
এবার আসল প্রশ্নে ফেরা যাক। চাঁদের মাটিতে থাকা পতাকার এখন কী অবস্থা? গবেষকরা বলছেন, চাঁদের তীব্র সূর্যালোকে পতাকাগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পৃথিবীতে দীর্ঘদিন সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে কাপড়ের রং যেমন ফিকে হয়ে যায়, চাঁদের পরিস্থিতি তারচেয়েও কঠিন। সেখানে দিন-রাতের ব্যবধানও বেশি, তাপমাত্রার পার্থক্য প্রচণ্ড। আর চাঁদের বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাঁদে থাকা পতাকাগুলো এখন আর আগের মতো রঙিন নেই, বরং সূর্যের তাপে ধীরে ধীরে সাদা হয়ে গেছে।
১৯৬৯-১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ৬টি মিশন পরিচালনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই সময়ের মধ্যে মোট ৬ বার মানুষ চাঁদে গিয়েছে। প্রতিবার একটা করে পতাকা স্থাপন করেছে চাঁদের বুকে।
এটা হলো ইতিবাচক কথা। এবার নেতিবাচক কথাটা বলি। চাঁদের মাটিতে এখনও পতাকা টিকে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। বায়ুমণ্ডলহীন চাঁদে ছোট ছোট উল্কা পড়ে অহরহ। সেগুলো আকারে ছোট হলেও গতি অনেক বেশি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এমন গ্রহাণুর আঘাতে পতাকা অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে পতাকা থাকুক বা না থাকুক, এগুলো ছিল প্রতীকী চিহ্ন। যুক্তরাষ্ট্র পতাকা স্থাপন করে চাঁদ দখল করতে চায়নি। আসলে চাইলেও কেউ চাঁদ দখল করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ বা রাষ্ট্র চাঁদের মালিক হতে পারবে না। তাই চাঁদের মাটিতে মার্কিন পতাকা থাকলেও তা আসলে মানবজাতির মহাকাশ জয়েরই প্রতীক।