তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী আড্ডা দিচ্ছিলেন, একটা পার্কে বসে। তাঁদের আড্ডার বিষয়, অতিসম্প্রতি তারা কে কী আবিষ্কার করেছেন। প্রথমেই মুখ খুললেন চায়নিজ বিজ্ঞানী—
—অতিসম্প্রতি আমরা একটা নৌযান আবিষ্কার করেছি, যেটা পানির স্পর্শ ছাড়াই ছুটতে পারে।
—বলেন কী!
—কী করে সম্ভব?
—হ্যাঁ, এই অসম্ভবকেই আমরা সম্ভব করেছি। পানির স্পর্শ ছাড়াই এই নৌযান পানির সারফেসের ওপর দিয়ে ছুটে যায়।
ওই নৌযানের ঠিক দুই আঙুল নিচে থাকে পানির সারফেস।
—অসাধারণ! অসাধারণ!
—আপনি কী আবিষ্কার করেছেন? এবার প্রশ্ন করা হলো মার্কিন সায়েন্টিস্টকে।
—আমরা নাসা থেকে অতিসম্প্রতি নতুন একটা মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছি, মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে...
—সেটা কি মঙ্গলে পৌঁছে গেছে? এটার বিশেষত্ব কী?
—এটার বিশেষত্ব হচ্ছে, এটা মঙ্গলে পৌঁছে মঙ্গলের মাটি স্পর্শ না করেই দিব্যি দাঁড়িয়ে থাকবে।
—বলেন কি!
নৌযানের দুই আঙুল নিচে পানির সারফেস দিয়ে ছুটে চলা আর মহাকাশযানের দুই আঙুল নিচে মঙ্গলের মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকার মতো আবিষ্কারের কথা শুনে মনে পড়ল, আমরাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবিষ্কার করে বসে আছি...
—হ্যাঁ, তা–ই। মঙ্গলের মাটির ওপরে এটা স্থির হয়ে ভাসতে থাকবে। মাটি স্পর্শ করার দরকার নেই। ওই অবস্থায় সব ধরনের তথ্য নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
—কীভাবে সম্ভব?
—ওই মহাকাশযানের ঠিক দুই আঙুল নিচে থাকে মঙ্গলের মাটি!
—ওহ, দারুণ! দারুণ!
—আচ্ছা, এবার আপনি বলুন আপনার সাম্প্রতিক আবিষ্কার সম্পর্কে। চায়নিজ বিজ্ঞানী আর আমেরিকান বিজ্ঞানী দুজনেই ঘুরে বসলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর দিকে। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী বড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—
—আসলে সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের দেশে বিজ্ঞান গবেষণার জন্য টাকা পাচ্ছি কই আমরা। তারপরও আপনাদের নৌযানের দুই আঙুল নিচে পানির সারফেস দিয়ে ছুটে চলা আর মহাকাশযানের দুই আঙুল নিচে মঙ্গলের মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকার মতো আবিষ্কারের কথা শুনে মনে পড়ল, আমরাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবিষ্কার করে বসে আছি...বহু আগেই...
—বলেন কি! কী সেটা?
—না, সেটা নৌযান বা মহাকাশযান টাইপ কিছু না। এটা খাদ্যবিষয়ক বলতে পারেন, আমরা সবকিছু নাক দিয়ে খাই।
—নাক দিয়ে খান? কী করে সম্ভব?
—ইয়ে তবে...
—তবে?
—তবে...ওই আপনাদের দুই আঙুল নিচের মতোই...মানে নাকের ঠিক দুই আঙুল নিচে আরকি।