বিজ্ঞান জগতের নতুন ঘটনা

প্রতিদিন বিজ্ঞানের জগতে ঘটছে নানা ঘটনা। প্রতিমুহূর্তে এগোচ্ছে পৃথিবী, বদলে যাচ্ছে অনেক কিছু। প্রকাশিত হচ্ছে নতুন গবেষণাপত্র, জানা যাচ্ছে নতুন গবেষণার কথা। কিছু বিষয় এত সুদূরপ্রসারী যে এগুলোর প্রভাব বোঝা যাবে আরও অনেক পরে। এরকম নানা বিষয়, নানা ঘটনা দেখে নিন একনজরে, জেনে নিন সংক্ষেপে।

১. টেলিস্কোপের চোখে ধরা পড়ল বিরল ‘আইনস্টাইন রিং’

মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের কারণে আলোর গতিপথ এভাবে বেঁকে যায়
ছবি: নাসা

পৃথিবী থেকে ৫৯০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে একটি গ্যালাক্সির চারপাশে আলোর নিখুঁত বলয় বা রিংয়ের দেখা পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল ঘটনার নাম ‘আইনস্টাইন রিং’। এ সম্পর্কিত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল অ্যাস্ট্রোনমি ও অস্ট্রোফিজিকস-এ।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি বা ইসার ইউক্লিড স্পেস টেলিস্কোপের সংগৃহীত ডেটা থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই বিরল আইনস্টাইন বলয়ের দেখা পেয়েছেন। এনজিসি ৬৫০৫ (NGC 6505) নামে একটি গ্যালাক্সির চারপাশে আলোর এই নিখুঁত বলয় দেখা গেছে। এর আগে এ ধরনের রিং দেখা গেলেও এত নিখুঁত আলোর বলয় কখনো দেখা যায়নি। সামনে গ্যালাক্সির চারপাশে যে বলয়টি দেখা গেছে, তা আসলে আরও দূরের উজ্জ্বল এক গ্যালাক্সির আলো থেকে তৈরি। অন্যদিকে এর পেছনের দ্বিতীয় গ্যালাক্সিটি ৪.৪২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে।

দ্বিতীয় গ্যালাক্সিটি আগে কখনো দেখা যায়নি। মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের কারণে আলোর গতিপথ এভাবে বেঁকে যায়। এই বিরল দৃশ্যের নামকরণ করা হয়েছে আলবার্ট আইনস্টাইনের নামে। কারণ, মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের ধারণাটি আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকেই এসেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন: টেলিস্কোপের চোখে ধরা পড়ল বিরল ‘আইনস্টাইন রিং’

২. বিশ্বের প্রথম হাইব্রিড কোয়ান্টাম সুপারকম্পিউটার

হাইব্রিড সুপারকম্পিউটার প্রচলিত সুপারকম্পিউটারের চেয়ে জটিল হিসেব করতে পারবে আরও দ্রুততম সময়ে

জাপানের প্রকৌশলীরা বিশ্বের প্রথম কার্যক্ষম হাইব্রিড সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছেন। এটি স্থাপন করা হয়েছে টোকিওর কাছে সাইতামা অঞ্চলের রিকেন সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউটে। নতুন এই সুপারকম্পিউটার ২০ কিউবিট গতিতে কাজ করতে পারবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘রেইমেই’। গতির দিক থেকে পৃথিবীর ৬ষ্ঠ সুপারকম্পিউটার ফুগাকুর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে একে।

জাপানের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন এ হাইব্রিড সুপারকম্পিউটার প্রচলিত সুপারকম্পিউটারের চেয়ে জটিল হিসেব করতে পারবে আরও দ্রুততম সময়ে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার রেইমেইটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কোয়ান্টিনুম’। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও রিকেন সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউট যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই কোয়ান্টাম কম্পিউটার পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হবে।’ অন্যান্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মতো সুপারকন্ডাক্টিং কিউবিট ব্যবহার করে না রেইমেই। এর পরিবর্তে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ট্র্যাপড-আয়ন কিউবিট’।

এ ধরনের প্রযুক্তিতে চার্জযুক্ত পরমাণু বা আয়নকে একটি বিদ্যুতচুম্বকীয় ক্ষেত্রে আলাদা করে রাখা হয়। এরপর লেজারের মাধ্যমে এদের কোয়ান্টাম অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই আয়নগুলো একেকটি কিউবিট হিসেবে কাজ করে। ফলে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে পারে কোয়ান্টাম ডেটা। ট্র্যাপড-আয়ন কিউবিট প্রযুক্তিতে দীর্ঘ ‘কোহেরেন্স টাইম’ পাওয়া যায়। ফলে রেইমেই কোয়ান্টাম কম্পিউটার ভুল তেমন করে না বললেই চলে। 

৩. খোঁজ মিলল মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠামোর

সুপারস্ট্রাকচারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুইপু’ (Quipu)। এই কাঠামোটির ভর ২০০ কোয়াড্রিলিয়ন সৌর ভরের সমান
ছবি: নিউ সায়েন্টিস্ট

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কাঠামো বা সুপারস্ট্রাকচারের খোঁজ পেয়েছেন। এটি আমাদের মহাবিশ্বের আকারের ধারণাকে ছাড়িয়ে যায়। এই সম্পর্কিত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল অ্যাস্ট্রোনমি ও অস্ট্রোফিজিকস-এ। এই সুপারস্ট্রাকচারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুইপু’ (Quipu)। কাঠামোটির ভর ২০০ কোয়াড্রিলিয়ন সৌর ভরের সমান। এটি ৪০০ মেগাপারসেকেরও বেশি জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। অর্থাৎ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষের সমান লম্বা এই কাঠামো। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির প্রায় ১৩ হাজার গুণ বড় এটি।

কুইপু নামটি দেওয়া হয়েছে মধ্য আমেরিকার ইনকা সভ্যতার গণনা পদ্ধতির নাম থেকে। ইনকা সভ্যতায় গিঁটযুক্ত দড়ি ব্যবহার করে গণনা করা হতো। এই নাম দিয়েছেন জার্মানির মিউনিখের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ফিজিকসের গবেষক হ্যান্স বোহরিঙ্গার ও তাঁর সহকর্মীরা। এর পাশে আরও চারটি দৈত্যাকার কাঠামোর খোঁজ পেয়েছেন এই বিজ্ঞানীরা।

বোহরিঙ্গার এবং তাঁর সহকর্মীরা ১৩০ থেকে ২৫০ মেগাপারসেক দূরত্বের মধ্যে কুইপু এবং অন্যান্য চারটি সুপারস্ট্রাকচার আবিষ্কার করেন। এক্স-রে গ্যালাক্সি ক্লাস্টার ব্যবহার করে তাঁরা ক্লাসিক্স এক্স-রে ক্লাস্টার সমীক্ষায় এই সুপারস্ট্রাকচারগুলোকে শনাক্ত করেন।

আরও পড়ুন

৪. বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি

গাড়িটির চারটি চাকায় চারটি ছোট ইঞ্জিন রয়েছে, যা এটিকে সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো চলতে সাহায্য করে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নির্মাতা সংস্থা ‘আলেফ অ্যারোনটিকস’ তৈরি করেছে প্রথম উড়ন্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি। তারা এই উড়ন্ত গাড়ির একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। নির্মাতা সংস্থাটি এই মডেলের নাম দিয়েছে ‘আলেফ মডেল এ’।

এই গাড়িতে দুজন লোক বসতে পারবে। এটি একবার চার্জ দিলে ১১০ মাইল পর্যন্ত উড়তে পারবে এবং ২০০ মাইল পর্যন্ত চালানো যাবে। আশা করা হচ্ছে, এই গাড়ি অটো পাইলট মোড, অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে পারবে। চালকের প্রয়োজন হবে না।

গাড়িটির চারটি চাকায় চারটি ছোট ইঞ্জিন রয়েছে, যা এটিকে সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো চলতে সাহায্য করে। অন্যান্য উড়ন্ত গাড়ি থেকে এটি আলাদা, কারণ এটি একই সঙ্গে রাস্তায় চলতে ও আকাশে উড়তে পারে। হোন্ডা, হুন্দাই, বিএমডব্লিউয়ের মতো কোম্পানিগুলো এর আগে যে উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করেছে, সেগুলো শুধু উড়তে পারত—অর্থাৎ সেগুলো ছিল গাড়ি আকারের হেলিকপ্টার। কিন্তু সেগুলো রাস্তায় সাধারণ গাড়ির মতো চলতে পারত না। সে জন্য তাদের এই গাড়িগুলোকে হেলিকপ্টারের সঙ্গে তুলনা করা হতো। কিন্তু এই নতুন ‘মডেল এ’ গাড়িটি রাস্তায় চলতে পারে, আবার প্রয়োজনে উড়তেও পারে হেলিকপ্টারের মতো। এ কারণে বিশেষ সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা।

৫. নিখুঁতভাবে ডিম সিদ্ধ করার উপায়

পর্যায়ক্রমে রান্না করা ডিমের কুসুমে অন্যান্য পদ্ধতিতে রান্না করা ডিমের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি পলিফেনল থাকে

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডিম সিদ্ধ করার একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। নতুন এই গবেষণাপত্রে ইতালির পোজুওলিতে ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের বিজ্ঞানী পেলেগ্রিনো মুস্তোর নেতৃত্বে গবেষকেরা প্রথমে কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডায়নামিকস (সিএফডি) ব্যবহার করে ডিম রান্নার প্রক্রিয়ার একটি মডেল তৈরি করেন। এই পদ্ধতিকে গবেষকেরা ‘পর্যায়ক্রমিক রান্না’ বলে অভিহিত করেছেন।

পর্যায়ক্রমিক রান্না পদ্ধতিতে প্রথমে ডিমটিকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফুটন্ত পানির পাত্রে রাখা হয়। এরপর ডিমটিকে রাখতে হয় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানিতে। এভাবে উভয় তাপমাত্রার মধ্যে ডিমটিকে কিছুক্ষণ পরপর পরিবর্তন করা হয়। সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়ার জন্য ডিমটিকে ৩২ মিনিটের জন্য প্রতি দুই মিনিট অন্তর এই দুটি ভিন্ন তাপমাত্রায় রাখতে হবে। অর্থাৎ দুই মিনিট অন্তর তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে হবে ৩২ মিনিট ধরে। এই পদ্ধতিতে ডিম সেদ্ধ করার জন্য সারাক্ষণই ডিমের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সময়ও লাগবে অনেক, বোঝাই যাচ্ছে।

গবেষকেরা পারমাণবিক চৌম্বকীয় অনুরণন (NMR) ও উচ্চ রেজুল্যুশনের ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে সিদ্ধ করা ডিমের গঠন, সংবেদনশীল গুণাবলি এবং রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এই গবেষণার ফলাফল থেকে প্রমাণিত হয়, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ডিম সিদ্ধ করলে এর স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ—দুটোই অনেক বেশি থাকে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পর্যায়ক্রমে রান্না করা ডিমের কুসুমে অন্যান্য পদ্ধতিতে রান্না করা ডিমের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি পলিফেনল থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পলিফেনল মানবদেহের জন্য উপকারী।

আরও পড়ুন

৬. মাইক্রোসফটের নতুন কোয়ান্টাম চিপ ‘মাজোরানা ১’

মাজোরানা ১

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ‘মাজোরানা ১’ নামে একটি নতুন চিপ তৈরি করেছে। মাইক্রোসফট বলছে, এই চিপের সাহায্যে কয়েক বছরের মধ্যেই কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে শিল্পস্তরের জটিল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। এই প্রথম টপোকন্ডাক্টর দিয়ে এই চিপ তৈরি করা হয়েছে। এই টপোকন্ডাক্টর পদার্থের এমন এক নতুন দশা তৈরি করতে সক্ষম, যা কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ নয়। নেচার  জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে হাতের তালুর চেয়েও ছোট চিপে আরও নির্ভরযোগ্য হার্ডওয়্যার তৈরি করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।

ইংল্যান্ডের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল স্টিভেনসন বলেন, ‘মাইক্রোসফট যদি গবেষণায় সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে, তবে তাঁরা নির্ভরযোগ্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির প্রতিযোগিতায় খুব শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।’

‘মাজোরানা ১’ টপোকন্ডাক্টর কোয়ান্টাম সিস্টেম এমন একটি পথ দেখাচ্ছে, যা মিলিয়ন কিউবিট স্কেল পর্যন্ত গণনা করতে সক্ষম। কিউবিট হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মৌলিক পাঠনিক উপাদান, যা বর্তমানে ব্যবহৃত কম্পিউটারগুলোর বাইনারি ১ এবং ০-এর মতো কাজ করে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, ইলেকট্রিক, বিবিসি, দ্য টেলিগ্রাফ, নিউ সায়েন্টিস্ট, লাইভসায়েন্স, সায়েন্স অ্যালার্ট, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, উইকিপিডিয়া ও বিজ্ঞানচিন্তা

 

নোট

১. সিএফডি হলো এমন কম্পিউটার সিস্টেম, যা ব্যবহার করে তরল ও গ্যাস কীভাবে প্রবাহিত হয়, তা অনুমান করতে পারেন বিজ্ঞানীরা। এটি পর্দাবিজ্ঞানের ভর, বেগ ও শক্তি সংরক্ষণের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।

২. পলিফেনল হলো এক শ্রেণির মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, সাধারণত উদ্ভিদে পাওয়া যায়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই যৌগগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত। উদ্ভিদ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে এই যৌগ তৈরি করে।