শেষ হলো সেন্ট গ্রেগরী স্কুলের বিজ্ঞান উৎসব

কলেজ পর্যায়ে প্রথম স্থান বিজয়ী নটরডেম কলেজছবি: জিয়া ইসলাম

২৩ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৪টা। সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে লাল টি-শার্ট পরা শিক্ষার্থীদের ভিড়। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে হলুদ টি-শার্ট পরা কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। সকলের দৃষ্টি মঞ্চের দিকে, যেখানে বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিছুক্ষণ পর স্কাউট দল বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসে। ড্রামের আওয়াজে জানান দেয় অনুষ্ঠানের সূচনার, অতিথিদের স্বাগত জানায়। স্কাউট সালাম ও করমর্দনের মাধ্যমে সম্মান জানায় সমাপনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের। এরপর অতিথিরা মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে নির্ধারিত আসনে বসেন।

এই সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিকাগোর সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটির গ্রাহাম স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ডিন, অধ্যাপক এবং জিএনএ-এর চেয়ারম্যান ফয়সাল এম রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেকচার পাবলিকেশন লিমিটেডের বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থাপক নিজাম আহমেদ, এসজিএইচএসসি-এর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান কমল কোরায়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্লাসিড পিটার রিবেরু।

অতিথিদের সঙ্গে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা
ছবি: জিয়া ইসলাম

গ্রেগরিয়ান ফয়সাল এম রহমান বলেন, ‘বিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিহার্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্রুততম ও সর্বোত্তম পথ হিসেবে এর ভূমিকাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।’

সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্লাসিড পিটার রিবেরু বলেন, ‘বিজ্ঞান উৎসবে যেসব প্রজেক্ট জমা পড়েছে, তা সত্যিই শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার চমৎকার নিদর্শন। আমরা চেষ্টা করব, যাতে এসব বিজ্ঞান প্রজেক্ট বাস্তবেও কাজে আসে।’

তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ৬৮তম এসজিএইচএসসি বার্ষিক ও ১৬তম জাতীয় বিজ্ঞান উৎসবের পর্দা ওঠে গত ২০ ফেব্রুয়ারি। মাঝে একদিন একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য অনুষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। ‘আজকের উদ্ভাবন আগামীর সুরক্ষা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন।

বিজ্ঞান উৎসবের প্রথম দিনটি ছিল অলিম্পিয়াড ডে। এ দিন বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল প্রজেক্ট সেটআপ, বিজ্ঞানবিষয়ক দেয়ালিকা জমা, প্রজেক্ট আইডিয়া ড্রয়িং, অরিগামি, প্রজেক্ট আইডিয়া প্রেজেন্টেশন এবং জেনারেল সায়েন্স অলিম্পিয়াড। এছাড়াও, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং রসায়নের উপর আলাদা আলাদা অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। 

খুদে বিজ্ঞানীরা তাদের কর্মকাণ্ড বলছে তাদের সহপাঠীদের
ছবি: জিয়া ইসলাম

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি করা বিজ্ঞান প্রজেক্টগুলো প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানে ৩৫টি স্কুল ও কলেজের হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। তারা ২০৫টি বিজ্ঞান প্রজেক্ট জমা দিয়েছে, প্রতিটি প্রজেক্টে ছিল ৩ জন করে শিক্ষার্থী। এছাড়াও, শিক্ষার্থীরা ৭০টি ওয়াল ম্যাগাজিন তৈরি করেছে, যেখানেও প্রতিটি দলে ছিল ৩ জন করে সদস্য। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ জন শিক্ষক এই প্রজেক্টগুলো মূল্যায়ন করেন। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পাশাপাশি চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানাধিকারীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

নতুন উদ্ভাবন নিয়ে শিক্ষার্থীরা
ছবি: জিয়া ইসলাম

গ্রেগরিয়ান সায়েন্স ক্লাব শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই উৎসবের আয়োজন করে। সেন্ট গ্রেগরী স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৯৬০ সালে প্রথম বিজ্ঞান উৎসব শুরু করে। এই আয়োজনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড। সহযোগী পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল লেকচার পাবলিকেশন্স লিমিটেড। মিডিয়া পার্টনার ছিল যমুনা টেলিভিশন এবং এবং ম্যাগাজিন পার্টনার ছিল বিজ্ঞান বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ