জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন সবাই শঙ্কিত যে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে অনেক দেশের অংশবিশেষ হয়তো ডুবে যাবে। আমাদের দেশেই তো দেখছি ধীরে ধীরে সমুদ্র উপকূলে পানি বাড়ছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কয়েকজন গবেষক কয়েক বছর আগে গবেষণা করে দেখেছেন, আমাদের দেশের নদ–নদীর পানির লবণাক্ততা সমুদ্র উপকূল থেকে তুলনামূলক দূরেও বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে বলেই এ অবস্থা। কিন্তু অনেকে ভাবতে পারেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে বলে হয়তো বিভিন্ন সাগরে ভাসমান হিমশৈলী গলে সমুদ্রের পানিতে মিশছে।
কিন্তু যেহেতু বরফের ঘনত্ব কম, তাই বরফগলা পানির আয়তন ভাসমান বরফখণ্ডের চেয়ে কম। তাই বরফগলা পানিতে সমুদ্রের পানির উচ্চতা খুব বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া সমুদ্রে ভাসমান বরফে পানির উচ্চতা তুলনামূলক কিছুটা বেড়ে যায়। তাই বরফ গলার পর সমুদ্রের পানির উচ্চতায় খুব বেশি হেরফের হওয়ার কথা নয়। এই যুক্তির ভিত্তি কিছুটা সত্য। কিন্তু এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় ভাবতে হবে, যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বাড়ছে। ফলে সমুদ্রের পানির আয়তনও বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির এটাও একটা বড় কারণ। অন্যদিকে পাহাড়চূড়ার বরফ গলে যে বড় বড় নদীর ধারা সমুদ্রে যাচ্ছে, সমভূমিতে নেমে নদীর স্রোত কমে যায়। ফলে সমুদ্র উপকূলে অনেক নদীতে পলি জমে। দেখা যায়, উপকূলে অনেক নদীর পানি সমুদ্রের পানির সঙ্গে মিশে লবণাক্ত হয়ে যাচ্ছে। তার মানে উপকূলের অনেক অঞ্চল সমুদ্রের নিচে চলে যাচ্ছে। সম্প্রতি আমাদের দেশেও এই সমস্যা বাড়ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বন্ধ করতে না পারলে পৃথিবীতে মানুষের বাসযোগ্য ভূমি কমে যাবে। সেটা হবে বিশ্ববাসীর জন্য এক বড় সমস্যা।