নিজেকে সুড়সুড়ি দেওয়া যায় না কেন

সুড়সুড়ি শব্দটার সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কারো সুড়সুড়ি বেশি, কারো কম। অনেকে আবার শব্দটা শুনেই হেসে ফেলেন। শিশুদের অনেক সময় সুড়সুড়ি দিয়ে খুনশুটি করতে দেখা যায়। কিন্তু এই সুড়সুড়ি আসলে কী?

সুড়সুড়ি একধরনের অনুভূতি—শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে স্পর্শজনিত কারণে হাস্যরসের উদ্রেক হয় এতে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া, যেমন আনন্দ, উদ্দীপনা বা উত্তেজনাও সৃষ্টি করতে পারে।

সুড়সুড়ির কারণে হাসি আসে কেন? ত্বকের বাইরের স্তরের (এপিডার্মিস) নিচে বিভিন্ন স্নায়ুর প্রান্ত পাশাপাশি থাকে। সুড়সুড়ি দেওয়া হলে সেখানে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি মস্তিষ্কও সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে মস্তিষ্কের যে অংশ হাসির উদ্রেক করে, সেই অংশ উদ্দীপ্ত হয়। ফলে সুড়সুড়ি দিলে মানুষ হেসে ফেলে।

তবে এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানো যায় না। কেন এমনটা হয়? আসলে সুড়সুড়ি দিলে হাসবে কি না, এই সিদ্ধান্ত নেয় মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক কীভাবে নির্দেশ দিচ্ছে, তার ওপর অনুভূতি নির্ভর করে। কারো স্পর্শের প্রতি সংবেদনশীলতা কম থাকলে সুড়সুড়ি দিলেও তারা হাসে না। যেকোনো অনুভূতির ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়টা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। সবাই সব অনুভূতির ক্ষেত্রে একরকম প্রতিক্রিয়া দেখায় না। আর স্পর্শের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক কম সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করলে ব্যক্তি বিশেষে সুড়সুড়ির অনুভূতির তারতম্য ঘটে। তা ছাড়া সুড়সুড়ির স্থান হিসেবে পরিচিত জায়গাগুলোও সবার ক্ষেত্রে একই রকম সক্রিয় নয়। যে কারণে কারো পায়ের তলায় সারাক্ষণ সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলেও সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। আবার দেখা গেল, কোমরের পাশে স্পর্শ করতে যাওয়া মাত্র কুকড়ে-মুকড়ে যায়, হেসে ফেলে।

আরও পড়ুন
সব সময় মস্তিষ্ক ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে ধারণা করার চেষ্টা করে। মস্তিষ্ক যে শুধু প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা কিন্তু না; বরং আগে বোঝার চেষ্টা করে, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে।

ঠিক একই কারণে কি নিজেকে সুড়সুড়ি দেওয়া যায় না? বিষয়টা বোঝানোর জন্য আমাদের হাঁটার ব্যাপারটা তুলনা করতে পারি। আমরা কি নিজেদের পায়ের শব্দ শুনতে পাই? উত্তর হলো না। কিন্তু পেছন থেকে কেউ হাঁটলে সেটা ঠিকই শুনি। কারণ আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো সব সময় বাইরের উদ্দীপনার প্রতি সজাগ থাকে। মূলত আত্মরক্ষার জন্যই মস্তিষ্ক বাইরের উদ্দীপনার প্রতি ইন্দ্রিয়গুলোকে সজাগ রাখে। পাশাপাশি মস্তিষ্ক যে শুধু কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা কিন্তু নয়; মস্তিষ্ক অনুমান করার চেষ্টা করে, ভবিষ্যতে কী হবে।

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্টিস্ট ডেভিড ইগলম্যান বলেছেন, ‘সব সময় মস্তিষ্ক ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে ধারণা করার চেষ্টা করে। মস্তিষ্ক যে শুধু প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা কিন্তু না; বরং আগে বোঝার চেষ্টা করে, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে। সেই অনুসারে আমাদের শরীর তথা ইন্দ্রীয়গুলো প্রতিক্রিয়া দেখায়।’

তা ছাড়া পূর্ব অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ক সুরক্ষিত করে রাখে। যে কারণে নিজে শরীরে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়া দেখায় না। ফলে নিজে নিজেকে সুড়সুড়ি দিলেও কোনো অনুভূতি টের পাওয়া যায় না। হাসিও আসে না।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স, বিবিসি

আরও পড়ুন