প্রাণিজগতের নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদেরকে সাধারণত সমুদ্রের ফুল নামে ডাকা হয়। বিশাল সমুদ্রজুড়ে রয়েছে নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের আধিপত্য। জেলিফিশ এই পর্বেরই এক বৈচিত্র্যময় প্রাণী। সম্প্রতি ২৪ চোখ বিশিষ্ট নতুন প্রজাতির জেলিফিশ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। জোর করে এদের ধরতে গেলেই বিষের জ্বালায় কাতরাতে হবে আপনাকে। বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত প্রজাতির জেলিফিশ এরা।
হংকংয়ের মাই পো নেচার রিজার্ভে পাওয়া এই জেলিফিশের নাম দেওয়া হয়েছে ট্রাইপেডালিয়া মাইপোয়েনসিস (Tripedalia maipoensis)। স্থানীয় ভাষায় একে বলে বক্স জেলিফিশ। বন্যপ্রাণী সংস্থা WWF, হংকংয়ের ওশান পার্ক এবং ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ২০২০-২২ সালের মধ্যে চিংড়ির পুকুর থেকে অনেক ধরনের জেলিফিশের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা পরীক্ষা করার সময় তাঁরা এই প্রজাতির জেলিফিশ খুঁজে পান। হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে তাইওয়ানের জ্যুলজিক্যাল স্টাডিজ জার্নালে।
এই জেলিফিশের ২৪টি চোখ চার ভাগে বিভক্ত। প্রত্যেক ভাগে রয়েছে ৬টি করে চোখ। এই ৬টির মধ্যে দুটিতে রয়েছে লেন্স। এর সাহায্যে জেলিফিশ দেখতে পায়। বাকি চারটি দিয়ে শুধু আলো অনুভব করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই জেলিফিশের ২৪টি চোখ চার ভাগে বিভক্ত। প্রত্যেক ভাগে রয়েছে ৬টি করে চোখ। এই ৬টির মধ্যে দুটিতে রয়েছে লেন্স। এর সাহায্যে জেলিফিশ দেখতে পায়। বাকি চারটি দিয়ে শুধু আলো অনুভব করতে পারে। মানে ওই চারটি চোখ আলোক সংবেদী। এই জেলিফিশের শরীর স্বচ্ছ ও বর্ণহীন। অনেকটা ঘনক-আকৃতির। এদের আছে ১২টা ট্যান্টাকল। এগুলোর সাহায্যে অন্যান্য জেলিফিশের চেয়ে এরা দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। পুকুরে এরা ছোট মাছ আর চিংড়ি ধরে খায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিকারের সময় চিংড়িকে এরা বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের জন্য এই জেলিফিশ খুবই বিষাক্ত হতে পারে। এদের সংস্পর্শে প্যারালাইসিস হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।